সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
প্রাচীন ’খলিফাতাবাদ’ এবং বর্তমান বাগেরহাটের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গোটাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়”। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়ে আজকের এ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে।
আমি প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ২১ সেপ্টেম্বর এখানে যোগদান করি। বিদ্যালয়টি ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে স্থায়ী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। কিন্তু চলার পথে বিদ্যালয়টি অভ্যন্তরীণ ও পারিপার্শ্বিক কারণে একটু পিছিয়ে পড়েছে, এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। এ অবস্থা থেকে দ্রæত উত্তরণের জন্য আমি যোগদান করার পর পরই নতুন পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক, প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, সুধীজন এবং শিক্ষা প্রশাসনের সহায়তায় কাজ শুরু করি। এখন মনে করি, আমরা বিদ্যালয়ের চাকাটিকে টেনে সঠিক ট্রাকে তুলেছি। এখন প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ এবং দক্ষ হাতে পরিচালনা করতে পারলেই চলতে থাকবে। তবে হ্যাঁ, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে সকলের সম্মিলিত প্রয়াস একান্ত প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে আর পূর্বের ন্যায় যথেষ্ট সংখ্যক যোগ্য উপযুক্ত ছাত্র-ছাত্রী তৈরী হচ্ছে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে লেখাপড়ার পাশাপাশি নৈতিকতাবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে আশাবাদ ব্যক্ত করছি সেদিন বেশি দুরে নয়, যেদিন এ বিদ্যালয়ের পুরণো ঐতিহ্য শুধু ফিরে আসবে না, বরং একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার যোগ্য সুনাগরিক তৈরি করতে এ বিদ্যালয়টি অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করবে।
পীর খানজাহান আলী (র:) এর পূণ্যভ‚মি বাগেরহাটের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান-গোটাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। প্রাচীন এ জনপদের দেশপ্রেমিক এবং জনদরদী ব্যক্তিবর্গের সম্মিলিত প্রয়াসের ফসল এ বিদ্যালয়টি। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যালয়ের প্রাথমিক কাজ শুরু হলেও ১৯৬ খ্রিস্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই অত্র এলাকার শিক্ষার অগ্রযাত্রায় সর্বোচ্চ ভ‚মিকা রাখতে সক্ষম হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে একাবিংশ শতকের শুরু থেকে বিদ্যালয়টির অগ্রযাত্রায় একটু ছন্দপতন ঘটে। আবার গত দ’বছর ধরে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের এর পৃষ্ঠপোষকতায় ও কর্মরত শিক্ষকমন্ডলীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সামনে এগিয়ে চলেছে। এখন প্রয়োজন সকলের শুভ দৃষ্টি অর্থাৎ শিক্ষার্থী ভর্তি করানো। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন, আমরা শিক্ষকমন্ডলী পড়াশুনার দায়িত্ব নেবার দীপ্ত শপথ গ্রহণ করেছি। এখন শুধু সামনে পথ চলা। আমারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করছি, সেদিন খুব বেশি দুরে নয়, যেদিন শুভানুধ্যায়ীরা গর্ব করতে পারবেন বিদ্যালয়কে নিয়ে ও এর ফলাফল নিয়ে। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন- এই প্রত্যাশায় শেষ করছি।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
এ বিদ্যালয়টি হবে একটি মডেল বিদ্যালয়। আমরা সবাই এ বিদ্যালয়টিকে নিয়ে গর্ব করব। আর বলব যে, আমরাও পারি। সেই সুন্দর আগামীর পত্যাশায় চেয়ে আছি এবং কাজ করে চলেছি। পরিােশষে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, পরিচালনা পর্ষদ সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কামনায় শেষ করছি।